অপেক্ষার প্রহর শেষ। বহুল আলোচিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ।এবারের নির্বাচনের সঙ্গে একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট। এজন্য ভোটারদের দেওয়া হবে আলাদা গোলাপি রঙের একটি ব্যালট পেপার। এতে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত চারটি নির্দিষ্ট প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি।বাংলাদেশে নির্বাচন একদিকে গণতান্ত্রিক উৎসবের প্রতীক, অন্যদিকে অতীত অভিজ্ঞতায় সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পূর্ববর্তী ১২টি নির্বাচনের মধ্যে মাত্র চারটিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল, বাকি আটটিতে ভোটের মান ও পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দিন যতই যাচ্ছে, ততই বিএনপিমুখী হয়ে উঠছেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাপীড়িত ও পোড়া মাটির পা-ফাটা ভোটাররা। স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বিএনপি ছাড়া সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই ধীরে ধীরে বিএনপির দিকেই ঝুঁকছেন তারা।রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনটি বরাবরই একটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে চারজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব এবং প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। অপরদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকেই দুই প্রার্থীই উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে এ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবেই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হয়েছে, তার বড় অংশই বিএনপির শাসনামলেই বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে অতীতের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রত্যাশায় ভোটাররা আবারও বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো তানোর-গোদাগাড়ীতেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই হবে মূল লড়াই। গত ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। এরপর থেকে দুই প্রার্থী ও তাদের দলের নেতাকর্মীরা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবহেলিত তানোরে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেন। সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।২০০৮ সালে মামলা জটিলতার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি ইন্তেকাল করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করে।ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে জামায়াত প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিরসনের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। বিশেষ করে এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক মনোনয়ন প্রত্যাহার করে প্রার্থী শরীফ উদ্দীনের পক্ষে মাঠে নামার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা এক কাতারে চলে আসেন। এতে করে ভোটের মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।তানোর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হাসান মাহমুদ রাজা বলেন, শুরুতে বিএনপির অবস্থান কিছুটা দুর্বল থাকলেও এখন ডোর টু ডোর প্রচারণা ও নারী ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতি বদলে গেছে। তিনি বলেন, “এ আসন বিএনপির ঘাঁটি। ধানের শীষ ছাড়া অন্য প্রতীকের বিজয় এখানে সহজ নয়।”উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তার ছোট ভাই প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের মধ্যে সেই আবেগ এখনো কাজ করছে।”সব মিলিয়ে রাজশাহী-১ আসনে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিএনপির পক্ষে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত ড. এম আসাদুজ্জামানের পুত্র ও বিএনপির মিডিয়া রিসার্চ সেলের প্রধান রেহান আসাদ রাতুল তানোর উপজেলার শিবতলা এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।মতবিনিময়কালে রেহান আসাদ রাতুল বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভবিষ্যতে সেগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।এ সময় তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান মিজান উপস্থিত ছিলেন আরও ছিলেন তানোর উপজেলা বিএনপির আহবাহক আখেরুজ্জামান হান্নান পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সনাতন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।উল্লেখ্য, মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সভায় রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ নিয়োগ