রাজশাহী জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা তানোর—একদিকে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, অন্যদিকে শিক্ষা, যোগাযোগ ও সামাজিক বাস্তবতার মিশ্র চিত্র। আয়তন, জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থাপনা—সব মিলিয়ে তানোর উপজেলার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো এক নজরে।
প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক তথ্য
তানোর উপজেলার আয়তন ২৯৫.৪০ বর্গকিলোমিটার। উপজেলায় রয়েছে ২টি পৌরসভা (তানোর ও মুন্ডুমালা) এবং ৭টি ইউনিয়ন। মোট গ্রাম ২১০টি এবং মৌজা ২১২টি, যার মধ্যে জনবসতিপূর্ণ মৌজা ২০৬টি।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
উপজেলাটিতে মোট ২৬৪.৪ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৭৮.৫ কিলোমিটার আধা-পাকা রাস্তা ও ৫৩৪.৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এছাড়া মাত্র ২.৫ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়।
জনসংখ্যা ও সামাজিক চিত্র
তানোর উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১,৯১,৩৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৪,০৪১ জন এবং মহিলা ৯৭,২৮৯ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬৪৮ জন। উপজেলায় বসবাসকারী উপজাতি জনসংখ্যা ৯,১৬৬ জন।
প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা প্রায় ৩,৫০০ জন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৩০ জন।
ভোটার ও দারিদ্র্য চিত্র
মোট ভোটার সংখ্যা ১,৪১,৬০৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার পুরুষের তুলনায় বেশি।
উপজেলার দারিদ্র্যের হার ৩৫.৭ শতাংশ, আর হতদারিদ্র্যের হার ২০.৭ শতাংশ, যা সামাজিক উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
কৃষি ও জীবিকা
তানোর উপজেলা কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানে রয়েছে ৫,৩৮৪টি পুকুর, ১,৬৭২ জন জেলে এবং ২৩,৯৯৩ হেক্টর আবাদী জমি। পাশাপাশি রয়েছে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির শতাধিক খামার।
শিক্ষা ব্যবস্থা
উপজেলায় রয়েছে ১৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি কলেজ ও ২৮টি মাদ্রাসা।
মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৭,৪৬৪ জন। তবে শিক্ষার হার মাত্র ৪৮.৮ শতাংশ, যা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
ধর্মীয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান
তানোরে রয়েছে ৩৯৬টি মসজিদ, ২২টি মন্দির, ১৬টি গীর্জা ও ১টি প্যাগোডা—যা ধর্মীয় সহাবস্থানের একটি উদাহরণ।
এছাড়া উপজেলায় রয়েছে ১৬টি হাট-বাজার, ০৪টি আদর্শ গ্রাম, ০২টি আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং ০৫টি জলমহল।
সবশেষ কথা
কৃষি সম্ভাবনা, মানবসম্পদ ও ভৌগোলিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখনো তানোর উপজেলার বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ নিলে এই উপজেলা ভবিষ্যতে রাজশাহীর অন্যতম উন্নত অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা তানোর—একদিকে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, অন্যদিকে শিক্ষা, যোগাযোগ ও সামাজিক বাস্তবতার মিশ্র চিত্র। আয়তন, জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থাপনা—সব মিলিয়ে তানোর উপজেলার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো এক নজরে।
প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক তথ্য
তানোর উপজেলার আয়তন ২৯৫.৪০ বর্গকিলোমিটার। উপজেলায় রয়েছে ২টি পৌরসভা (তানোর ও মুন্ডুমালা) এবং ৭টি ইউনিয়ন। মোট গ্রাম ২১০টি এবং মৌজা ২১২টি, যার মধ্যে জনবসতিপূর্ণ মৌজা ২০৬টি।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
উপজেলাটিতে মোট ২৬৪.৪ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৭৮.৫ কিলোমিটার আধা-পাকা রাস্তা ও ৫৩৪.৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এছাড়া মাত্র ২.৫ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়।
জনসংখ্যা ও সামাজিক চিত্র
তানোর উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১,৯১,৩৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৪,০৪১ জন এবং মহিলা ৯৭,২৮৯ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬৪৮ জন। উপজেলায় বসবাসকারী উপজাতি জনসংখ্যা ৯,১৬৬ জন।
প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা প্রায় ৩,৫০০ জন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৩০ জন।
ভোটার ও দারিদ্র্য চিত্র
মোট ভোটার সংখ্যা ১,৪১,৬০৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার পুরুষের তুলনায় বেশি।
উপজেলার দারিদ্র্যের হার ৩৫.৭ শতাংশ, আর হতদারিদ্র্যের হার ২০.৭ শতাংশ, যা সামাজিক উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
কৃষি ও জীবিকা
তানোর উপজেলা কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানে রয়েছে ৫,৩৮৪টি পুকুর, ১,৬৭২ জন জেলে এবং ২৩,৯৯৩ হেক্টর আবাদী জমি। পাশাপাশি রয়েছে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির শতাধিক খামার।
শিক্ষা ব্যবস্থা
উপজেলায় রয়েছে ১৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি কলেজ ও ২৮টি মাদ্রাসা।
মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৭,৪৬৪ জন। তবে শিক্ষার হার মাত্র ৪৮.৮ শতাংশ, যা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
ধর্মীয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান
তানোরে রয়েছে ৩৯৬টি মসজিদ, ২২টি মন্দির, ১৬টি গীর্জা ও ১টি প্যাগোডা—যা ধর্মীয় সহাবস্থানের একটি উদাহরণ।
এছাড়া উপজেলায় রয়েছে ১৬টি হাট-বাজার, ০৪টি আদর্শ গ্রাম, ০২টি আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং ০৫টি জলমহল।
সবশেষ কথা
কৃষি সম্ভাবনা, মানবসম্পদ ও ভৌগোলিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখনো তানোর উপজেলার বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ নিলে এই উপজেলা ভবিষ্যতে রাজশাহীর অন্যতম উন্নত অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন