Varendra Times

রাজশাহী

বাগমারায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা, ভাঙচুর

বাগমারায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা, ভাঙচুর

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কথা বলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে পৃথক দুইটি ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়ভাবে ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর ইউনিয়নের সাদোপাড়া গ্রামে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর দুই ভাতিজা খায়রুল ইসলাম ও রাতুল ইসলাম হামলার শিকার হন। আহত অবস্থায় তাঁদের তাহেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। মহিদুল ইসলাম শ্রীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি পেশায় একজন পল্লিচিকিৎসক এবং সাদোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সাদোপাড়া ডাকঘরের সামনে মহিদুল ইসলামের পথরোধ করেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী। তাঁরা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে কেন তিনি আওয়ামী লীগের লোকজনকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন, তা জানতে চান। মহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করলে একপর্যায়ে বিএনপির কর্মীরা লাঠি ও রড নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। চিৎকার শুনে তাঁর দুই ভাতিজা ঘটনাস্থলে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা মহিদুল ইসলামের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চলে যান।

আহত খায়রুল ইসলাম বলেন, লোহার রড দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়েছে এবং তাঁর বাম হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে আশঙ্কায় তারা মামলা করবেন না। তিনি আরও জানান, পেশাগত কারণে তাঁর চাচার সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর আগে থেকেই পরিচয় ছিল এবং রোগী পাঠানোর সুবাদে ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই কারণেই চায়ের দোকানে প্রার্থীর ভালো দিক তুলে ধরে কথা বলেছিলেন।

এ ঘটনায় শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাম পারভেজ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল নির্বাচনবিরোধী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে সামান্য চড়থাপ্পড় দিয়েছে। বিষয়টি বড় কোনো ঘটনা নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া বাজারে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ কর্মী এনামুল হককে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর চাচা মোজাম্মেল হকও হামলার শিকার হন। একই সঙ্গে তাঁদের চায়ের দোকানে হামলা চালিয়ে জগ, চেয়ার ও টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে গাঙ্গোপাড়া বাজারে এনামুল হক চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় বিএনপির প্রার্থীর ফেস্টুন ছেঁড়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির দুই সমর্থক তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে এনামুল হককে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর বুক ও হাঁটুতে আঘাত লাগে। এ সময় তাঁর চাচা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। ঘটনার সময় বিএনপির এক কর্মীও আহত হন।

খবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জামায়াত প্রার্থীর ক্লিনিকে এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আহত এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। কোনো ফেস্টুন ছেঁড়া হয়নি এবং দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা বলায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাঁর বড় চাচা একসময় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ছিলেন, তবে বর্তমানে কোনো পদে নেই।

এ বিষয়ে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম বলেন, ফেস্টুন ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনা ঘটেছে এবং দলীয়ভাবে কোনো অভিযোগ নেই।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৃথক দুইটি ঘটনা ঘটেছে। গাঙ্গোপাড়া বাজারের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং শান্ত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাদোপাড়ার ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Varendra Times

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বাগমারায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা, ভাঙচুর

প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কথা বলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে পৃথক দুইটি ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়ভাবে ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর ইউনিয়নের সাদোপাড়া গ্রামে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর দুই ভাতিজা খায়রুল ইসলাম ও রাতুল ইসলাম হামলার শিকার হন। আহত অবস্থায় তাঁদের তাহেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। মহিদুল ইসলাম শ্রীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি পেশায় একজন পল্লিচিকিৎসক এবং সাদোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সাদোপাড়া ডাকঘরের সামনে মহিদুল ইসলামের পথরোধ করেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী। তাঁরা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে কেন তিনি আওয়ামী লীগের লোকজনকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন, তা জানতে চান। মহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করলে একপর্যায়ে বিএনপির কর্মীরা লাঠি ও রড নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। চিৎকার শুনে তাঁর দুই ভাতিজা ঘটনাস্থলে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা মহিদুল ইসলামের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চলে যান।

আহত খায়রুল ইসলাম বলেন, লোহার রড দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়েছে এবং তাঁর বাম হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে আশঙ্কায় তারা মামলা করবেন না। তিনি আরও জানান, পেশাগত কারণে তাঁর চাচার সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর আগে থেকেই পরিচয় ছিল এবং রোগী পাঠানোর সুবাদে ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই কারণেই চায়ের দোকানে প্রার্থীর ভালো দিক তুলে ধরে কথা বলেছিলেন।

এ ঘটনায় শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাম পারভেজ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল নির্বাচনবিরোধী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে সামান্য চড়থাপ্পড় দিয়েছে। বিষয়টি বড় কোনো ঘটনা নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া বাজারে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় আওয়ামী লীগ কর্মী এনামুল হককে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর চাচা মোজাম্মেল হকও হামলার শিকার হন। একই সঙ্গে তাঁদের চায়ের দোকানে হামলা চালিয়ে জগ, চেয়ার ও টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে গাঙ্গোপাড়া বাজারে এনামুল হক চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় বিএনপির প্রার্থীর ফেস্টুন ছেঁড়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির দুই সমর্থক তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে এনামুল হককে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর বুক ও হাঁটুতে আঘাত লাগে। এ সময় তাঁর চাচা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। ঘটনার সময় বিএনপির এক কর্মীও আহত হন।

খবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জামায়াত প্রার্থীর ক্লিনিকে এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আহত এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। কোনো ফেস্টুন ছেঁড়া হয়নি এবং দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা বলায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাঁর বড় চাচা একসময় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ছিলেন, তবে বর্তমানে কোনো পদে নেই।

এ বিষয়ে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম বলেন, ফেস্টুন ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনা ঘটেছে এবং দলীয়ভাবে কোনো অভিযোগ নেই।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৃথক দুইটি ঘটনা ঘটেছে। গাঙ্গোপাড়া বাজারের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং শান্ত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাদোপাড়ার ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


Varendra Times

সম্পাদক ও প্রকাশক : ফরহাদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ Varendra Times । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত