দিন যতই যাচ্ছে, ততই বিএনপিমুখী হয়ে উঠছেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাপীড়িত ও পোড়া মাটির পা-ফাটা ভোটাররা। স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বিএনপি ছাড়া সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই ধীরে ধীরে বিএনপির দিকেই ঝুঁকছেন তারা।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনটি বরাবরই একটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে চারজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব এবং প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। অপরদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকেই দুই প্রার্থীই উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে এ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবেই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হয়েছে, তার বড় অংশই বিএনপির শাসনামলেই বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে অতীতের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রত্যাশায় ভোটাররা আবারও বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো তানোর-গোদাগাড়ীতেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই হবে মূল লড়াই। গত ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। এরপর থেকে দুই প্রার্থী ও তাদের দলের নেতাকর্মীরা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবহেলিত তানোরে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেন। সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে মামলা জটিলতার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি ইন্তেকাল করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে জামায়াত প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিরসনের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। বিশেষ করে এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক মনোনয়ন প্রত্যাহার করে প্রার্থী শরীফ উদ্দীনের পক্ষে মাঠে নামার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা এক কাতারে চলে আসেন। এতে করে ভোটের মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তানোর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হাসান মাহমুদ রাজা বলেন, শুরুতে বিএনপির অবস্থান কিছুটা দুর্বল থাকলেও এখন ডোর টু ডোর প্রচারণা ও নারী ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতি বদলে গেছে। তিনি বলেন, “এ আসন বিএনপির ঘাঁটি। ধানের শীষ ছাড়া অন্য প্রতীকের বিজয় এখানে সহজ নয়।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তার ছোট ভাই প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের মধ্যে সেই আবেগ এখনো কাজ করছে।”
সব মিলিয়ে রাজশাহী-১ আসনে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিএনপির পক্ষে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দিন যতই যাচ্ছে, ততই বিএনপিমুখী হয়ে উঠছেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাপীড়িত ও পোড়া মাটির পা-ফাটা ভোটাররা। স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বিএনপি ছাড়া সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই ধীরে ধীরে বিএনপির দিকেই ঝুঁকছেন তারা।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনটি বরাবরই একটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে চারজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব এবং প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। অপরদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকেই দুই প্রার্থীই উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে এ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবেই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হয়েছে, তার বড় অংশই বিএনপির শাসনামলেই বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে অতীতের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রত্যাশায় ভোটাররা আবারও বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো তানোর-গোদাগাড়ীতেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই হবে মূল লড়াই। গত ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। এরপর থেকে দুই প্রার্থী ও তাদের দলের নেতাকর্মীরা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবহেলিত তানোরে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেন। সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে মামলা জটিলতার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি ইন্তেকাল করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে জামায়াত প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিরসনের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। বিশেষ করে এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক মনোনয়ন প্রত্যাহার করে প্রার্থী শরীফ উদ্দীনের পক্ষে মাঠে নামার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা এক কাতারে চলে আসেন। এতে করে ভোটের মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তানোর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হাসান মাহমুদ রাজা বলেন, শুরুতে বিএনপির অবস্থান কিছুটা দুর্বল থাকলেও এখন ডোর টু ডোর প্রচারণা ও নারী ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতি বদলে গেছে। তিনি বলেন, “এ আসন বিএনপির ঘাঁটি। ধানের শীষ ছাড়া অন্য প্রতীকের বিজয় এখানে সহজ নয়।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তার ছোট ভাই প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের মধ্যে সেই আবেগ এখনো কাজ করছে।”
সব মিলিয়ে রাজশাহী-১ আসনে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিএনপির পক্ষে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন